গতকাল সংগ্রহ করেছি। আজকে পড়ে শেষ করলাম। আলহামদুলিল্লাহ!
•
ফিলিস্তিন বরাবরের মতো আমার প্রবল আবেগের জায়গা। কেউ যদি আমাকে বাছাইকৃত তিনটা টপিকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন— যেগুলোর ব্যাপারে আমি পড়তে, লিখতে, শুনতে কিংবা দেখতে ভালোবাসি— তন্মধ্যে ফিলিস্তিনের নাম আমি ১/২ এর মধ্যে রাখব। এবং ভবিষ্যতেও আমার লেখা কিংবা পাঠ জীবনে ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রচন্ডভাবে জুড়ে যেতে চাই।
•
প্রতিবার বইমেলায় আমার নিয়ত থাকে গাযা কিংবা ফিলিস্তিন সম্পর্কে কোনো ভালো বই সংগ্রহ করব। রিভিউ দিয়ে অন্যদেরকেও কিনতে উৎসাহ দিব। গতবছর কিনেছিলাম মোজাম্মেল হোসেন ত্বহা ভাইয়ের অসাধারণ বই ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’। এ বছর ‘গাযার দিনলিপি’র ঘোষণা আসার পর থেকেই পাক্কা এরাদা
গতকাল সংগ্রহ করেই পড়া শুরু করে দিই। শব্দের নিখুঁত গাঁথুনি এবং তথ্যের সরল রেখা ধরে হেঁটে যাই দূর গাযার ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে। অবর্ণনীয় বেদনাদায়ক দৃশ্যগুলো দেখি আর ভেতরে ভেতরে হাহাকার করে উঠি। ধিক জানাই নিজকে। কিভাবে এত পাষবিক হয়ে গেলাম আমরা। টানা ৩ বছরের অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞ আর অবরোধে সেখানকার প্রতিটি প্রাণ আজ বিলুপ্তপ্রায়। অথচ এখানে বসে আমরা কত আরামে জীবন উপভোগ করছি৷ যেখানে গাযার শিশুরা ত্রাণ আনতে যেয়ে গুলিতে বুক এফোড় ওফোড় করে, সেখানে আমরা রেস্টুরেন্টে বসে নিত্যনতুন আইটেম অর্ডার করে খাই। যেখানে গাযায় মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয় পরিবার সুদ্ধ একেকটা তাবু কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র; সেখানে আমরা পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আয়োজন করি বার্বিকিউ পার্টি। ধিক আমাদের!
•
‘গাযার দিনলিপি’র স্বার্থকতা বোধ হয় এখানেই– বইটি আমাকে আপনাকে বাধ্য করবে ফিলিস্তিনের মানুষগুলোকে নিয়ে ভাবতে। বাধ্য করবে গাযার বিলীনপ্রায় ফুলশিশুদেরকে দোয়ায় রাখতে।
ধন্যবাদ লেখিকা এবং ‘গাযার দিনলিপি’র সংশ্লিষ্ট সবাইকে। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান!
•
সংক্ষেপে বইয়ের ডিটেইলস:
নাম: গাযার দিনলিপি
লেখিকা: ফিলিস্তিন অ্যাক্টিভিস্ট